সমকালীন

স্বজন ছাড়া দিনলিপি

Posted on Updated on

বাংলাদেশে স্যোসাল সাইট ফেসবুক, কিছু যোগাযোগ অ্যাপস বন্ধ রয়েছে বেশ কিছুদিন যাবৎ। কারন হিসাবে বেশ কিছু যুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। ব্যাপারটার পক্ষ নিয়ে মাননীয় মন্ত্রী তারানা হালিম নাকি একটা আবেকতাড়িত লেখা লিখেছেন। আমার লেখাটা পড়ার সৌভাগ্য হয় নাই, তবে প্রতিক্রিয়া পড়েছি। চিন্তা করি আমার মন্ত্রী মহোদয় কত সহজেই নিজের ভাবনা শেয়ার করতে পারছেন আর আমরা অধমরা সেটাও পারছি না। আমার স্বজনদের অধিকাংশই মতামতের জনৌ ফেসবুকটা ব্যাবহার করে। সবার তো আর আমার মত নিজের ব্লগ সাইট নাই!
কত বন্ধুকে যে তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে পারলাম না, মিস করলাম বন্ধুদের অনেক মুহুর্ত উপভোগ করতে। আমার স্টুডেন্টদের সাথে সমস্যা আলোচনা করতে পারছি না।
আমার কিছু পরিচিত বন্ধু ছোটখাট ই-কমার্স চালায়, যেগুলা মূলত ফেসবুক ভিত্তিক। কয়েকজন তো এবার কর্মচারিদের বেতন কিভাবে দেবে সে ভাবনায় অস্থির, সংসার খরচ আর অফিস ভাড়া তো পরের কথা।
কিছু বাচ্চা ছেলে মেয়ে প্রোগ্রামিং আর পড়াশুনা বিষয়ক গ্রুপ চালায়, আমি ব্যাক্তিগত ভাবে তাদের অনেকের সাথে যুক্ত। ফেসবুক বন্ধ হওয়ায় তাদের উদ্যোমে যে ভাটা পরছে এটা দেখতেই পারছি।
মুখে পিম্পল দেখা দিলে সাথা কেঁটে ফেলাটা কোন সমাধান হলো নাকি? আশা করি খুব শিগ্রই সমস্যাটার সমাধান হবে। ততদিন ভাল থাকবে বন্ধুরা।

টাকার কথা -২

Posted on Updated on

আগে টাকা মানুষের হুকুম তামিল করত, এখন মানুষ টাকার হুকুম তামিল করে। টাকা নতুন করে বংশ-কৌলিন্য বেধে দিল। টাকা বলল- এখন থেকে বর্ন দিয়ে সমাজ বিভাগ হবে না, হবে টাকা দিয়ে। মহাজনই হবে বর্ণশেষ্ঠ ব্রাক্ষ্মন। সেই মহাজনই নিজের প্রয়োজনে কায়স্থ বৈশ্য শুদ্র শ্রেনী ভাগ করবে। আজকে যে শুদ্র সেও একদিন কায়স্থ হতে চাইল।আজকে যে কায়স্থ সেও চাইল ব্রাক্ষ্মন হতে। তখন বাধলো বিরোধ। ব্রাক্ষ্মন বৈশ্য কায়স্থ শুদ্রদের মধ্যে বিবাদ বিরোধ জটিল হয়ে উঠলো প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকেই। টাকার দর নামল, সোনার দর চড়লো। লক্ষ লক্ষ শুদ্র ব্রাক্ষ্মন  হলো। কোটি কোটি ব্রাক্ষ্মন হলো শুদ্র। টাকা দিয়েই যাচাই হতে লাগল মনুষ্যত্ব, ধর্ম, পাপ, পূন্য, ভালবাসা, স্নেহ, মমতা সবকিছুর। টাকাই হলো ধর্ম, টাকাই হলো মোক্ষ, টাকাই হলো কাম। টাকাই সকলকে এক হাটে বেচে আর এক হাটে সওদা করতে লাগল। বিংশ শতাব্দির অর্ধশতকে পৌছে মানুষ হলো পোটেন্ট, কিন্তু টাকা হয়ে গেল অমনিপোটেন্ট!!

টাকার কথা –০১

Posted on

এবার টাকার কথা বলি। আগেও বলেছি, আবার বলি। টাকার কথা যেন বলে শেষ করাও যায় না। টাকা যেই সৃষ্টি করুক, সৃষ্টির পর থেকেই টাকা যেন তার সৃষ্টিকর্তাকেও আর মানতে চাইলো না। মধ্যযুগ পেরিয়ে টাকা যখন সাবালক হলো তখন তার পাঁচ পা গজিয়েছে। আগে টাকা ছিল ব্যক্তির, এখন হলো দশের। টাকা একদিন বলল – আমি বহু হব। আর তাই সে হলো। তখন সে মাটিতে পোতা সম্পত্তি রইল না আর। কখনও হলো সোনা। সোনা হয়ে অলংকার হলো। কখনো কাগজ হয়ে নোট হলো, আবার কখনো চেক হয়ে ব্যাঙ্কে ঢুকল। টাকার তখন দুর্দম গতি। আগে টাকা ছিল মানুষের বাহন, এখন মানুষ হলো টাকার বাহন। আগে মানুষ বলত – টাকা চাই। এখন টাকা বললে – মানুষ চাই। টাকার মানুষরা শেষকালে আর কোথাও মানুষ পায়না শিকার করবার। তখন নতুন মানুষ, নতুন মহাদেশ খুঁজতে বেরোল সমুদ্র পেরিয়ে। খুঁজতে খুঁজতে পেল আফি্যকা, ইন্ডিয়া, চায়না, জাপান। এখানে জিনিষ ছিল, টাকা ছিল না। মহাজনরা বলল- তোমাদের জিনিষ দাও, তোমাদের আমরা টাকা দেব। জিনিস বেচে প্রচুর টাকা হলো। টাকার পাহাড়। তারপর একদিন দেশে মহামারি হলো, দুভিক্ষ হলো, বন্যা হলো। চাল, ডাল, তরি তরকারি কিছু নাই, সব বেচে দিয়েছি। খালি টাকা আছে। কিন্তু টাকাতে পেটের ক্ষিদে মেটেনা। তখন আমরা চালাক হয়ে গেলাম। টাকাকে বাঁধতে হবে, টাকাকে বুঝতে হবে, টাকাকে ভাল বাসতে হবে। টাকা আগে ছিল মানুষের ক্রিতদাস, তখন থেকে মানুষ হলো টাকার ক্রিতদাস।