আত্মকথন

সোনালি দিনগুলি

Posted on Updated on

আমরা যারা নব্বই দশকে বেড়ে উঠেছি তাদের জীবনে নগর বাউল, এল আর বি এরা একটা বিরাট অংশজুড়ে।
নবীনগর থেকে আলমনগর পর্যন্ত পুরো রাস্তাটাই সেইসময় ছিল খালি। আমি আর আনোয়ার প্রায়ই সন্ধ্যার পর যখন বাড়িতে ফিরতাম তখন গলা ফাটিয়ে গাইতাম বাচ্চু, জেমস, নচিকেতার গান। আনোয়ারের আক্ষেপ আমার কারনে নাকি ওর সংগিত প্রতিভার বিচ্ছুরন ঘটেনি, আমি ওকে গাইতে দিতাম না। আমাদের সময় বন্ধুত্ব মানে টাইমলাইনে ইমোশন না। আমরা বোধহয় হৃদয় দিয়েই বন্ধুত্বকে উপভোগ করতাম। তাইতো বছরের পর বছর দেখা না হলেও সম্পর্কটা টিকে থাকে।
আমাদের আড্ডাগুলোতে গল্প হত কম আর গান হত বেশী আর শেষ হত আইয়ুব বাচ্চুর সেই তুমি গানের কোরাসের মাধ্যমে। বাচ্চুর ভাঙ্গা মন গানটা গাইত কনিকারার টিপু। আমার ধারনা আইয়ুব বাচ্চুর চাইতে টিপুই বেশি ভাল গাইত।
সেই বয়সেই আসল প্রেম, একটু বাধো বাধো ঠেকছে তাই তার নামটা উল্লেখ করার সাহস পাচ্ছি না। দুটো ঈদ কার্ড দেয়ার সাহস পেলেও নিজের মনের কথাটা বলার সাহস আমার কোন দিনই হয় নাই।
খুবই আবেগি ভাষায় ডায়রি লিখতাম সেই সময়। ডায়রিগুলো পাবার খুব ইচ্ছা ছিল। হারিয়ে গেছে, হাতে পেলে আবার পড়ার খুব ইচ্ছা।
আবার নতুন করে দুর থেকে আমার কৈশোরকে দেখতে চাচ্ছি, আমি জানি আমার কৈশোর ছিল স্বপ্নের মত। আজও আমি স্বপ্নেই তো কাঁটাই সময়।

Advertisements